খুলনা, বাংলাদেশ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
  গোমস্তাপুরে ৭ লিটার চোলাইমদসহ নারী গ্রেফতার
  ঈদগাঁও ৩নং ওয়ার্ড যুব বিভাগের কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা
  মা ও শিশু পুষ্টি নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা কেসিসি’র দায়িত্ব
  ডুমুরিয়ায় গ্রীন ফোর্সের উপজেলা কমিটি, আহ্বায়ক ফয়সাল ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর
  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ

ডুমুরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ বছর ধরে নেই নারী শিক্ষক, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

[ccfic]

অনুপম মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা):

খুলনার ডুমুরিয়া সদরস্থ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫৯ জন ছাত্রী পড়াশোনা করলেও দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে একটিও নারী শিক্ষকের পদ পূরণ হয়নি। ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি নারী শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।শিক্ষার্থীদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালীন নানাবিধ সমস্যা, জীববিজ্ঞান বিষয়সহ ব্যক্তিগত অনেক অনুভূতি পুরুষ শিক্ষকদের কাছে খোলামেলা বলা সম্ভব হয় না। দশম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী, ষষ্ঠ শ্রেণির দ্বীপ স্মরণীয় হৈমন্তী এবং নবম শ্রেণির রেজওয়ানা কবির সাবামনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, “এত বড় একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে একজন নারী শিক্ষকও নেই—এটা ভাবা যায় না! অনেক কথা বা সমস্যা নারী শিক্ষকের কাছে যত সহজে বলা যায়, পুরুষ শিক্ষকের কাছে তা কোনোভাবেই বলা সম্ভব হয় না।”বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৭৭ সালে ডুমুরিয়া যুব সংঘের উদ্যোগে ৩৭ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৮ সালে এটি সরকারীকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত নারী শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তবে অবসর ও বদলিজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হতে থাকে। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষিকা আসমা রহমান ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অবসরে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে নারী শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ে।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন বিশ্বাস জানান, নারী শিক্ষক না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সবিতা সরকার বলেন, “বিষয়টি আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়টিতে নারী শিক্ষক না থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।অন্যদিকে, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অলিউল ইসলাম লবি বলেন, “বিদ্যালয়টিতে দ্রুত নারী শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করতে আমি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলব।”দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিভাবকদের প্রশ্ন—২৫৯ জন ছাত্রীর একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কোনো নারী শিক্ষক না থাকার এই বৈষম্যমূলক বাস্তবতা আর কত দিন চলবে? দ্রুততম সময়ে নারী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT